ডায়াবেটিস বর্তমানে একটি বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য সমস্যা। অনিয়ন্ত্রিত রক্তে শর্করার পরিমাণ দীর্ঘমেয়াদে বিভিন্ন জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে। কিন্তু ডায়াবেটিস হওয়ার আগেই যদি আমরা ঝুঁকির মাত্রা বুঝতে পারি, তাহলে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব।
রক্তে শর্করার স্বাভাবিক মাত্রা
রক্তে শর্করার স্বাভাবিক মাত্রা নির্ভর করে কোন সময় তা মাপা হচ্ছে তার ওপর। সাধারণতঃ
- খালি পেটে (Fasting Blood Sugar – FBS): ৭০-৯৯ mg/dL
- খাওয়ার ২ ঘণ্টা পর (Postprandial Blood Sugar – PPBS): ১৪০ mg/dL-এর নিচে
- HbA1c (গ্লাইকোসিলেটেড হিমোগ্লোবিন): ৫.৭% এর কম
প্রিডায়াবেটিসে (Prediabetes) মাত্রা
যখন রক্তে শর্করার পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি কিন্তু ডায়াবেটিস নির্ণয়ের মাত্রার নিচে, তখন একে প্রিডায়াবেটিস বলা হয়।
- খালি পেটে: ১০০-১২৫ mg/dL
- খাওয়ার ২ ঘণ্টা পর: ১৪০-১৯৯ mg/dL
- HbA1c: ৫.৭% – ৬.৪%
প্রিডায়াবেটিস একটি সতর্ক সংকেত যা দেখায় যে ব্যক্তির ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
ডায়াবেটিসে (Diabetes) মাত্রা
যদি রক্তে শর্করার মাত্রা নিম্নলিখিত সীমার ওপরে থাকে, তবে ব্যক্তির ডায়াবেটিস হয়েছে বলে ধরা হয়।
- খালি পেটে: ১২৬ mg/dL বা তার বেশি
- খাওয়ার ২ ঘণ্টা পর: ২০০ mg/dL বা তার বেশি
- HbA1c: ৬.৫% বা তার বেশি
ডায়াবেটিস প্রতিরোধে করণীয়
যারা প্রিডায়াবেটিস অবস্থায় রয়েছেন, তারা কিছু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি কমাতে পারেন। যেমন:
- সুস্থ খাদ্যাভ্যাস: কম চর্বিযুক্ত, বেশি আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ করা
- নিয়মিত ব্যায়াম: প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়াম করা
- ওজন নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত ওজন কমানো
- চিনি ও কার্বোহাইড্রেট নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত চিনি ও পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট কম খাওয়া
- নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা: রক্তে শর্করার মাত্রা পর্যবেক্ষণ করা
উপসংহার
প্রিডায়াবেটিস অবস্থা শনাক্ত হলে তা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাই রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়মিত পরীক্ষা করানো এবং সুস্থ জীবনযাপন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত, যদি পরিবারে ডায়াবেটিসের ইতিহাস থাকে তবে আরও সচেতন হওয়া জরুরি।
স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি!
আরো পড়ুন: