টাইপ ২ ডায়াবেটিস একটি দীর্ঘমেয়াদি ও বিপাকীয় রোগ, যা মূলত দেহে ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে যাওয়ার কারণে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়। এটি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ওষুধের পাশাপাশি জীবনধারার পরিবর্তন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক জীবনযাত্রা অনুসরণ করলে ডায়াবেটিসের জটিলতা কমানো সম্ভব এবং ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়ানো যায়।
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস
সুষম খাদ্যগ্রহণ টাইপ ২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের অন্যতম প্রধান উপায়। কিছু গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যাভ্যাস হলো:
- কম কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাদ্য: শর্করাযুক্ত খাবার কম গ্রহণ করা এবং লো গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI) সম্পন্ন খাবার বেছে নেওয়া।
- প্রচুর আঁশযুক্ত খাবার: শাকসবজি, ফলমূল, বাদাম, ডাল এবং সম্পূর্ণ শস্য জাতীয় খাবার রক্তে শর্করার মাত্রা ধীরে বাড়ায়।
- প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার: মাছ, মুরগি, ডিম, দুগ্ধজাত পণ্য এবং উদ্ভিদ-ভিত্তিক প্রোটিন গ্রহণ করা দরকার।
- প্রক্রিয়াজাত ও চর্বিযুক্ত খাবার এড়ানো: ফাস্ট ফুড, অতিরিক্ত চিনিযুক্ত ও তেলযুক্ত খাবার কম খাওয়া উচিত।
নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ
নিয়মিত ব্যায়াম ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়ায় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে।
- হাঁটা ও হালকা ব্যায়াম: প্রতিদিন অন্তত ৩০-৪৫ মিনিট হাঁটা, যোগব্যায়াম বা হালকা ব্যায়াম করা উপকারী।
- ওজন প্রশিক্ষণ: মাংসপেশির কার্যকারিতা বাড়িয়ে ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করে।
- নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম: দৈনন্দিন কাজে শারীরিক শ্রমের মাত্রা বাড়ানো উচিত।
ওজন নিয়ন্ত্রণ
সঠিক ওজন বজায় রাখা টাইপ ২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য অপরিহার্য। অতিরিক্ত ওজন থাকলে তা কমানোর জন্য স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং ব্যায়াম অনুসরণ করতে হবে। শরীরের ৫-১০% ওজন কমালে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমতে পারে।
মানসিক স্বাস্থ্য ও স্ট্রেস ব্যবস্থাপনা
চিন্তা ও মানসিক চাপ রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়াতে পারে। স্ট্রেস কমানোর জন্য:
- মেডিটেশন ও যোগব্যায়াম চর্চা করা
- পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা (প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা)
- অবসর সময়ে পছন্দের কাজ করা
- পারিবারিক ও সামাজিক সংযোগ বজায় রাখা
ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিহার
ধূমপান এবং অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ ইনসুলিন সংবেদনশীলতা কমায় ও ডায়াবেটিসের জটিলতা বাড়ায়। তাই এগুলো এড়ানো জরুরি।
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা
নিয়মিত রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা দরকার, যাতে তা স্বাভাবিক মাত্রায় রাখা যায়। পাশাপাশি, রক্তচাপ ও কোলেস্টেরলের মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
উপসংহার
টাইপ ২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে জীবনধারার পরিবর্তন অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ, মানসিক চাপ ব্যবস্থাপনা, এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার মাধ্যমে এই রোগকে সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। সুস্থ জীবনযাত্রার জন্য সচেতনতা ও ধৈর্য ধরে জীবনধারা পরিবর্তন করা আবশ্যক।
আরও পড়ুন: