টাইপ ২ ডায়াবেটিস একটি অবস্থা যেখানে শরীর পর্যাপ্ত ইনসুলিন উৎপাদন করতে পারে না, বা উৎপন্ন ইনসুলিন সঠিকভাবে কাজ করে না (ইনসুলিন প্রতিরোধ)। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ার কারণ হতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। ইনসুলিন শরীরকে শর্করার (চিনি) শক্তিতে রূপান্তর করতে সহায়তা করে। যথেষ্ট ইনসুলিন না থাকলে, রক্তে শর্করার মাত্রা অত্যন্ত বেড়ে যায়।
টাইপ ২ ডায়াবেটিস টাইপ ১ ডায়াবেটিস থেকে ভিন্ন, যা শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সমস্যার কারণে হয়। টাইপ ২ ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা সম্ভব হতে পারে। এটি খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়ামের মাধ্যমে, অথবা ওষুধের সাহায্যে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। উচ্চ রক্ত শর্করার মাত্রা হৃদরোগ, কিডনি রোগ, স্ট্রোক বা স্নায়ুর সমস্যার মতো জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। ওজন কমানো এবং খাদ্যাভ্যাস উন্নত করার মাধ্যমে টাইপ ২ ডায়াবেটিস প্রতিরোধ বা বন্ধ (রেমিশন) করা সম্ভব হতে পারে।
যদি টাইপ ২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না রাখা হয়, তাহলে এটি বিভিন্ন জটিলতার কারণ হতে পারে, যেমন হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বৃদ্ধি, কিডনির সমস্যা, চোখের সমস্যা (ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি), স্নায়ুর ক্ষতি (নিউরোপ্যাথি), পায়ে সংক্রমণ বা আলসার হওয়া।

টাইপ ২ ডায়াবেটিস একটি দীর্ঘমেয়াদী অবস্থা হলেও এটি সঠিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যকর জীবনধারা অনুসরণ করলে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। প্রাথমিক পর্যায়ে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করলে এর জটিলতা এড়ানো যায় এবং সুস্থ জীবনযাপন সম্ভব। নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা ও ডাক্তারদের পরামর্শ অনুযায়ী চলা গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন: