টাইপ ২ ডায়াবেটিস একটি দীর্ঘস্থায়ী রোগ যা শরীরের ইনসুলিন ব্যবহারের ক্ষমতায় প্রভাব ফেলে। ইনসুলিন একটি হরমোন যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। টাইপ ২ ডায়াবেটিসের চিকিৎসা সাধারণত তিনটি প্রধান উপায়ে পরিচালিত হয়: জীবনযাত্রার পরিবর্তন, ওরাল মেডিকেশন, এবং ইনসুলিন থেরাপি।
আরও পড়ুন: টাইপ ২ ডায়াবেটিস কী?
জীবনযাত্রার পরিবর্তন
টাইপ ২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে জীবনযাত্রার পরিবর্তন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গ্রহণ, নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম, ওজন নিয়ন্ত্রণ, ধূমপান পরিহার, এবং অ্যালকোহল সেবন সীমিত করা এই পরিবর্তনের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। বিশেষজ্ঞদের মতে, সপ্তাহে কমপক্ষে ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শারীরিক কার্যক্রম, যেমন হাঁটা বা সাঁতার কাটা, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। এছাড়াও, প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ফলমূল, সবজি, এবং উচ্চ ফাইবারযুক্ত খাবার অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। নিয়মিত দাঁতের পরীক্ষা করান, যা মাড়ির রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করবে।
আরও পড়ুন: টাইপ ২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক জীবনধারার পরিবর্তন
ওরাল মেডিকেশন
যদি জীবনযাত্রার পরিবর্তন যথেষ্ট না হয়, তবে চিকিৎসক ওরাল মেডিকেশন প্রস্তাব করতে পারেন। মেটফর্মিন সাধারণত প্রথমে নির্ধারিত হয়, যা লিভার থেকে গ্লুকোজ উৎপাদন কমায় এবং শরীরের ইনসুলিন ব্যবহারের ক্ষমতা বাড়ায়। প্রয়োজনে অন্যান্য ওষুধ, যেমন সুলফোনাইলইউরিয়াস বা এসজিএলটি-২ ইনহিবিটরস, মেটফর্মিনের সাথে যুক্ত করা হতে পারে।
ইনসুলিন থেরাপি
যদি ওরাল মেডিকেশন রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়, তাহলে ইনসুলিন থেরাপি প্রয়োজন হতে পারে। ইনসুলিন ইনজেকশন বা পাম্পের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করানো হয়, যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। চিকিৎসক রোগীর নির্দিষ্ট প্রয়োজন অনুযায়ী ইনসুলিনের মাত্রা ও সময় নির্ধারণ করেন।
টাইপ ২ ডায়াবেটিসের চিকিৎসা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে, তাই চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ রোগ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।